দেশে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও নতুন বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের কারণে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা সারাদেশে আরও বাড়তে পারে। সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম থেকে এখনই পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরও নিশ্চিত করেছেন যে, বৃষ্টির এই ধারা শনিবার পর্যন্ত বজায় থাকবে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আগামী দুই দিনের মধ্যে নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া ও শেরপুর জেলার নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিন বিরতি দিয়ে গত সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে রাজধানী ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোণায় দেশের সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুরে ৭৬ এবং ময়মনসিংহে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল।
এর আগে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে। এছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে ৭৯, নীলফামারীর ডিমলায় ৭১, নেত্রকোনায় ৬২, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৬১, কক্সবাজারে ৫৪, বান্দরবান ৫০, ফেনীতে ৪৭ এবং ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।