সুনামগঞ্জের রামসাইট খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার ভেতরে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার রাত ৮টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে এই ১১ দফা নির্দেশনা কার্যকর করা হবে এবং কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোটের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো নৌযান চালানো যাবে না। আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সুনামগঞ্জের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
হাউসবোটের ক্ষেত্রে কঠোর কিছু নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার বা পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না এবং নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিটি হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন থাকতে হবে; হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।
নৌযানের নিরাপত্তার বিষয়ে বলা হয়েছে, হাউসবোটের দৈর্ঘ্য ১০০ ফুটের বেশি হতে পারবে না। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং ট্যুর শুরুর আগেই পর্যটকদের তা অবহিত করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা বা উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালীন পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।