বিএনপির মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফটোকপি দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির বলেন, ‘নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, হুবহু তার একটি ফটোকপি আমরা আপনাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারাও তো আমাদের মতোই মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হতে যাচ্ছেন?’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির যে ত্যাগ ছিল, দলটি তা ভুলে গিয়ে নিজেরাও আওয়ামী লীগ হয়ে উঠার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘তারা নিজেরাই বলেছেন, ধানখেতে পাটখেতে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই স্মৃতি তারা ভুলে গেলেন। যে স্বভাব ফ্যাসিস্ট সরকারের ছিল, সেটি এখন তারা ধারণ করছেন।’
জামায়াতের আমির বিএনপির একজন অ্যাকটিভিস্টকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া হবিগঞ্জে কিশোর আলিফ হোসেনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোখ তো শেষ করেছিল শেখ হাসিনা। আপনারা আবার শুরু করলেন কেন? পারবেন চোখটা ফিরিয়ে দিতে? পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, যারা জনগণের অভিপ্রায়কে সম্মান করে না, জনগণ তাদের অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করে। এতে অনেকে শেষ পর্যন্ত দেশেও থাকতে পারে না, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
সভায় এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মনে করবেন না আপনি সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী। অন্য পদেও আসতে হবে। কেউ এক পদে আজীবন থাকে না। তখন আপনার কী হবে? প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না, এ ছাড়া আর কোনো সংস্কারে তো আপনার আপত্তি থাকার কারণ নেই।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের তথ্য তুলে ধরে সরকারকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘বারবার হামলা করে লাভ হবে না। জেলে যাব নয়তো কবরে, মাথা নত করব না।’
সভাপতির বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ১৯৭১ এবং ২০২৪-এর চেতনা এক ও অভিন্ন। কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি। সভায় আরও বক্তৃতা করেন বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইযহার, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।