দেশে সরকার বদল হলেও মাদক সিন্ডিকেটের চরিত্র বদল হয় না। অতীতে ইয়াবা বা মাদকের নাম শুনলে যে সিন্ডিকেটের কথা সবার আগে ভেসে উঠত, সেই চেইন এখনো অক্ষত রয়েছে। সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির মতো অনেক প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে গা ঢাকা দিলেও মাদকের রুট বা সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়নি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে আগের ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় যারা মাদক স্পট, পরিবহন ও খুচরা বিক্রির নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাদের একটি অংশ আত্মগোপনে চলে গেছে কিংবা ভোল পাল্টে ফেলেছে। তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বর্তমান রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্য, যাদের ছত্রছায়ায় নতুন করে মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
মাদক ব্যবসা মানেই প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের প্রবাহ। এই কালোটাকা সন্ত্রাসী বাহিনী টিকিয়ে রাখা, মামলার খরচ চালানো এবং রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই ক্ষমতার বলয়ে থাকা ব্যক্তিরা এই নগদ অর্থের লোভ সংবরণ করতে পারেন না। ভাটারা থানার কুড়িল কুড়াতলী এলাকায় সেলিনা নামের এক নারী নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ দাবি করে মাদকের হাট বসিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়া মাদকের চালান তার হাত দিয়েই বাজারে বিক্রি হয় এবং তার পেছনে রয়েছেন কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানান, সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শনিবার ডিবি লালবাগ ৫১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির পাড়গেন্ডারিয়া ইউনিটের সভাপতি রিপন মিয়া ও ফারুক ওরফে টেপা ফারুককে ৩৫০০ পাতা হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে। ডিবির এডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করলেও বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
অন্যান্য ঘটনার মধ্যে, ৬ জুন পল্লবী থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজ ওরফে মুন্নাকে হেরোইন ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি। ২৫ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ১৬ জুন যৌথ বাহিনী নোয়াখালীর চাটখিলের ভিমপুর গ্রামে ববিতা আকতার সুমাইয়ার মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। সুমাইয়া ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে এসি ও সিসি ক্যামেরা বসিয়ে ব্যবসা চালাতেন এবং যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের সঙ্গেই সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে ছোটখাটো রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করলেও মূল প্রভাবশালীরা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।