বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ছয়টি বিতরণ অঞ্চল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। বিদ্যুৎকে একটি রাষ্ট্রীয় সেবা খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাত বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র এখানে সফল হতে দেওয়া হবে না।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবাবগঞ্জের কানসার্ট ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আতিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে কেন বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে, তার কৈফিয়ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের অবশ্যই জনগণের কাছে দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ নিজের জীবন দিয়ে হলেও এই সেবা খাত রক্ষা করবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের আমলে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে এস আলম গ্রুপকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারের ঘাড়েও সেই এস আলমের প্রেতাত্মারা ভর করেছে এবং বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রীও একই পথে হাঁটছেন। লুটপাটকারী এস আলম গ্রুপকে এই কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বিদ্যুৎমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আপনি কি এ দেশের মন্ত্রী, নাকি কোনো একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করে এই সরকারকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন?
গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের জনগণকে বোকা মনে করবেন না। ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণকে বোকা বানিয়ে কিছু করতে চাইলে তার ফল হিতে বিপরীত হবে। একই সঙ্গে ভুতুড়ে বিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বর্ধিত বিল আদায় করা হলে জনগণকে সাথে নিয়ে বিদ্যুৎ ভবন ঘেরাও করে প্রতিবাদ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সরকারের পাঁচ মাসের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ মাসে কিছু করতে পারি না বলে সময় চাওয়া—এভাবে দেশ চলতে পারে না। যে পারে সে এক মাসে পারে, আর যে পাঁচ মাসে পারে না সে পাঁচ বছরেও পারবে না। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি পুরোনো স্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুৎ দে, গ্যাস দে—নইলে গদি ছেড়ে দে’।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, ডিপিডিসির সভাপতি আ ন ম বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি না করে আধুনিকায়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও যুগোপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে লাভজনক করা।চলমান সব শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী বিদ্যুৎকর্মীদের যোগ্যতম পোষ্যদের নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ অসহায় পরিবারগুলোকে বঞ্চনা থেকে মুক্তি দেওয়া।অবিলম্বে সিবিএ নির্বাচন দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা।পে-স্কেলের ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োজিত গাড়িচালকসহ সব কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া।বোর্ডের কাজের স্বার্থে পদ শূন্য হলেই সময়সীমার পরিবর্তে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।আবাসন সমস্যা নিরসনে বোর্ডের সব দপ্তরে আধুনিক মানসম্পন্ন, বৈষম্যহীন ও সঠিক আয়তনের আবাসিক ভবন নির্মাণ করা।