রাজশাহী অঞ্চলে আগামী এক মাসের মধ্যেই নতুন আগাম আলু বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ এ অঞ্চলের হিমাগারগুলোতে এখনো আগের বছরের অর্ধেকের বেশি আলু অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। আলু সংরক্ষণ ও উৎপাদন খরচ মেটাতে না পেরে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী। হিমাগার মালিকরা আগামী মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিমাগার খালি করার নোটিশ দিলেও, বাজারে আলুর দাম কম থাকায় চাষিরা আলু খালাস করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৩৬টি হিমাগারে ৮০ লাখ বস্তায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক খালাস হলেও এখনো প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু অবিক্রীত রয়ে গেছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান জানান, যদিও চুক্তি অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আলু সরানোর কথা, তবে চাষিদের দুরাবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছুটা সময় বাড়ানো হতে পারে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে হিমাগার খালি করা বাধ্যতামূলক।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু ১২ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন ও হিমাগার ভাড়া বাবদ চাষিদের খরচ হয়েছে প্রতি কেজিতে ২২ থেকে ২৫ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে প্রায় ১১ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার গ্রামের আলু চাষি শেখ মবিনুর রহমান জানান, উত্তরা স্টোরে রাখা তার ২৫০ বস্তা আলু এখন তোলা ও বিক্রি করা উভয়ই বিপদজনক। তিনি জানান, এই দামে আলু বিক্রি করলে হিমাগার ভাড়াই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
বায়া এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, হিমাগারে রাখা আলুর ৬০ ভাগই এখনো অবিক্রীত। মাত্র এক মাসের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ আলু কোথায় বিক্রি করবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। বায়ার আসমা হিমাগারের ব্যবস্থাপক আলী আশরাফ হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, সময়সীমা পার হলে চাষিদের আলু নিলামে বিক্রি করে হিমাগার ভাড়া আদায় করা হবে। রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই মৌসুমে চাষিরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এবারও পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সরকারি কোনো পদক্ষেপ না থাকায় অনেক কৃষকই আর আলু চাষ না করার কথা ভাবছেন।