বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল এবং এর কাছাকাছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশেই মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়ার মতে, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে, যদিও খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করছে। বুধবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন দেশের তিনটি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
এর আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। সেই সময় সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে পাঁচ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।