মানুষ মরণশীল এবং এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে কেউই স্থায়ী নয়। দুনিয়ার ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ছেড়ে একদিন সবাইকে ওপারে পাড়ি জমাতে হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের প্রতিফল সম্পূর্ণভাবেই কেয়ামতের দিন পাবে।’ এছাড়া সুরা নাহলের ৬১ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা আরও বলেছেন, ‘অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন একমুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।’
মৃত ব্যক্তিকে দাফনের সময় উপস্থিত লোকদের জন্য কবরে তিনবার উভয় হাত দিয়ে মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। এই মাটি মৃত ব্যক্তির মাথার দিক থেকে দেওয়া উত্তম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি জানাজার নামাজ আদায় করার পর মৃতের কবরের কাছে আসেন এবং তার মাথার দিকে তিনবার মাটি দেন। (ইবনে মাজাহ : ১৫৬৫; তাবয়িনুল হাকায়েক, ১/৫৮৭)।
কবরে মাটি দেওয়ার সময় দুই হাত ব্যবহার করা নিয়ম। এ সময় দোয়া পড়া অত্যন্ত উত্তম, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন তিনি একটি বিশেষ দোয়া পড়েছিলেন। এই দোয়ার উচ্চারণ হলো: ‘মিনহা খালাকনাকুম, ওয়া ফিহা নুয়িদুকুম, ওয়ামিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা।’ এর বাংলা অর্থ হলো, ‘আমি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছি, আর মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়ে আনব। পুনরায় তোমাদের মাটি থেকে বের করব।’ (সুরা তহা : ৫৫)।
মাটি দেওয়ার সময় এই দোয়াটি তিনবারে ভাগ করে পড়ার নিয়ম রয়েছে। প্রথমবার মাটি দেওয়ার সময় ‘মিনহা খালাকনাকুম’ বলতে হয়। দ্বিতীয়বার মাটি দেওয়ার সময় ‘ওয়া ফিহা নুয়িদুকুম’ এবং তৃতীয়বার মাটি দেওয়ার সময় ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’ বলতে হয়। (বায়হাকি : ৬৯৭৩)।