টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান এখন এক পরিবর্তনের গল্প বলছে। সর্বশেষ ৪৫ টেস্টে ১০ জয়, শেষ ১৭ টেস্টে ৬ জয় এবং সর্বশেষ ১০ টেস্টে ৪ জয়ের পরিসংখ্যান লাল বলের ক্রিকেটে দলটির উন্নতির ধারাকে স্পষ্ট করে। অথচ শুরুর দিনগুলোতে চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন ‘মিনোজ’ বা দুর্বল দল হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিত ছিল এবং ক্রিকেট পোর্টালগুলোতে এমনও লেখা হতো যে, এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের ম্যাচ বাদ দিয়ে হিসাব করা উচিত।
একসময় টেস্ট খেলতে নামা মানেই ছিল বাংলাদেশের জন্য অবধারিত হার। ২০০৫ সালে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর, বিদেশের মাটিতে প্রথম জয় আসে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যখন দলটি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে দুর্বল ছিল। সেই ঐতিহাসিক জয়ের আগে দেশের বাইরে খেলা ৩০টি টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ২৮টিতেই হেরেছিল এবং মাত্র দুটিতে ড্র করতে পেরেছিল, যার একটি বৃষ্টির কল্যাণে পাওয়া।
সেই বাংলাদেশ এখন ডাউনআন্ডারেও জয় পেয়েছে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়টি ছিল তাদের অন্যতম বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে হারানো যেকোনো সফরকারী দলের জন্যই কঠিন। তবে কিছু দেশে এখনো জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, যার মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত। ইংল্যান্ডে চার টেস্ট খেলে সবকটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ, যেখানে সর্বশেষ খেলেছিল ২০১০ সালে। আগামী বছর আবার ইংল্যান্ড সফরে যাবে দলটি। এছাড়া ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ হার এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আট ম্যাচে আটটি হারের রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের।
দেশের বাইরে এখন পর্যন্ত ছয়টি দেশে টেস্ট জয়ের নজির আছে বাংলাদেশের—ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২ ম্যাচে ৩টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, যা বিদেশের মাটিতে তাদের সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড। এছাড়া পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়েতে দুটি করে এবং শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় একটি করে জয় রয়েছে।
প্রথম জয়ের অপেক্ষায় থাকা দেশগুলোতে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় লেগেছে। অস্ট্রেলিয়ায় তৃতীয় ম্যাচেই জয় এলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম জয় এসেছে তৃতীয় ম্যাচে। পাকিস্তানে ষষ্ঠ, জিম্বাবুয়েতে সপ্তম ও নিউজিল্যান্ডে দশম ম্যাচে প্রথম জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি ১২ ম্যাচ খেলতে হয়েছে শ্রীলঙ্কায় প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে।