সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এটি ঠিক কবে থেকে এবং কয়টি ধাপে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন এই বেতন কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণও নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা জানান, নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের পে কমিশন তাদের নিজ নিজ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদনের ওপর সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করেছে। বিচার বিভাগের পে-স্কেলের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ একটি আলাদা কমিটি গঠন করেছে, যার প্রথম সভা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বাস্তবতা, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে এই কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবে। এরপর মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের সময়সীমা ও ধাপ নির্ধারণ করবে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের জোগান নিয়ে কোনো সমস্যা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঋণ নেওয়াকে তিনি সমস্যা মনে করেন না। তিনি আরও বলেন, মূল বিষয় হলো বাজেট ঘাটতি, জিডিপির তুলনায় করের হার এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয়ের অনুপাত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য ও বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনার বিষয়ে তিনি বলেন, বেতন বা ব্যয়ের তুলনায় একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়; বরং 'যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা' নীতি অনুসরণ করা উচিত।
বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা না দিলেও তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশে মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ, আর পেনশনভোগীসহ এই সংখ্যা ২০ লাখের কাছাকাছি। মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।