নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের পর সরকারের মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে এখন ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাদে এই মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। এর আগে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ৪৮ জন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত শুক্রবার নতুন করে পাঁচজন সদস্য যুক্ত হওয়া এবং একজন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর মন্ত্রিসভার এই নতুন চিত্র সামনে এসেছে।
মন্ত্রিসভার এই দপ্তর বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি থাকলেও, একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকার বিষয়টি বেশ বিরল। এছাড়া, কিছু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকলেও কোনো উপদেষ্টা নেই, আবার কোথাও মন্ত্রী একাই একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এমনও দেখা গেছে, কেউ কেউ একাই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে একাধারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি বিশেষ সহকারীও রয়েছেন। মন্ত্রিসভার বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা এবং তিনজন বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রয়েছেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় তিনি একাই সামলালেও, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। এই দুই মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জাহেদ উর রহমান। জাহেদ উর রহমান সংস্কৃতি ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন দায়িত্ব পালন করছেন। মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আরিফুল হক চৌধুরীও রয়েছেন। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষার মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষার প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; এখানে কোনো উপদেষ্টা নেই, তবে বিশেষ সহকারী হিসেবে আছেন মো. সাইমুম পারভেজ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার দায়িত্ব পালন করছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম ও হুমায়ুন কবির দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহনের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; রেলপথ ও সড়ক পরিবহনে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এবং নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; সমাজকল্যাণে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন ও নতুন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এবং প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সহকারী আছেন।.ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।
তখন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।