বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সালাম ও দরুদ পেশ করেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন- “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)। তিনি বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনই ছিল তাঁর অন্যতম শিক্ষা।’ তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার চরিত্রে উত্তম।” আর মহান আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর অনুপম চরিত্রের প্রশংসা করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী (সুরা আল-আহআব, আয়াত ২১)।’
উপস্থিত সুধীমণ্ডলীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনুসরণীয়। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন এবং ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
দেশের ধর্মীয় ও ইসলামী সাংস্কৃতিক বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন করেছিলেন এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ৪টি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন। বর্তমান সরকারও ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি আশা করি, ২০৩০ সালের আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সকল মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয় মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে।’
আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়খদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা সমাজের পথনির্দেশক। সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও গুজব দূর করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান। সবশেষে, তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী জী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।