বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খেলাধুলাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের দেশ ও সমাজ পিছিয়ে পড়বে। গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রথম আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ক্রীড়াকে আনন্দের একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, খেলাধুলা মানুষকে সুখ-দুঃখের মাঝেও আনন্দ দিতে পারে। দেশের সেরা ক্রীড়াবিদরা যখন তাদের নৈপুণ্য দেখান, তখন পুরো জাতি আনন্দিত হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সফলতার খবর আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয় এবং মনে করিয়ে দেয় যে আমরা কোনো পিছিয়ে পড়া জাতি নই।
তিনি সামাজিক বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, সমাজে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তবে বিশ্বের প্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের মেয়েদের, বিশেষ করে ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়েদের মধ্যে যদি আমরা একজন সেরা ক্রীড়াবিদ পাই, তবে তিনি বিশ্বমঞ্চে দেশের মাথা উঁচু করেন এবং অন্যান্য খাতের নারীদেরও উজ্জীবিত করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে সমানভাবে এগিয়ে যেতে হবে, অন্যথায় দেশ পিছিয়ে থাকবে। এই বিষয়টি অনুধাবন করেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করেছিলেন। যোগ্যদের যথাযথ সম্মান দেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি মহানগর ও জেলায় এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করার তাগিদ দেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। কিন্তু ক্রীড়াক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ যদি মাত্র ৫ বা ১০ শতাংশ হয়, তবে সমাজ এগোতে পারবে না। তাই নারীদের অংশীদারত্ব সব জায়গায় সমান হওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারীদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সুনাম বয়ে আনতে হবে। এ সময় তিনি দেশে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, উগ্র রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা এবং জান্নাতের টিকিট বিক্রি করা শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নিতে মেয়েদের খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছে তাদের সংস্থা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা খানম, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
উল্লেখ্য, এই প্রথম দেশে আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজিত হচ্ছে, যা কিশোরী ফুটবলারদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাওয়ার নতুন পথ উন্মোচন করবে। দেশের আটটি বিভাগের ১৬টি জেলার প্রায় ৩০০ জন কিশোরী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী জেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, খুলনা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, সিলেট, পিরোজপুর ও রংপুর।