কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে গত শনিবার থেকে বাজারে বনরুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, রুটি ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ও ওজন সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে সব মিলিয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার রিকশাচালক মো. আলমগীর জানান, প্রতিদিন কাজের ফাঁকে তাকে কয়েকবার নাশতা করতে হয়। আগে একটি বনরুটি ও এক কাপ চায়ে তার ২০ টাকা খরচ হলেও এখন একই নাশতায় খরচ হচ্ছে ২৫ টাকা। তিনি বলেন, শারীরিক শক্তি ধরে রাখতে তাকে এই নাশতা খেতেই হয়, কিন্তু এখন বাড়তি দাম তার কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। একইভাবে মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব সড়কের চা বিক্রেতা জব্বার শেখ জানান, চা পাতা ও চিনির দাম আগে থেকেই বেশি ছিল, এখন রুটির দাম বাড়ায় তার বেচাকেনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড়-দুই বছরে ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল ও জ্বালানি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, ছয় মাসের ব্যবধানে খোলা ময়দার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ, খোলা সয়াবিন ৫ শতাংশ এবং চিনির দাম গড়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে। এসব কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে, আগে ১৩০ টাকা কেজি দরের বিস্কুট এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বনরুটি ও মাফিন কেকের ক্ষেত্রে শুধু দামই বাড়েনি, বরং ওজনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ৪০ গ্রাম ওজনের যেসব বনরুটি বা কেক পাওয়া যেত, সেগুলোর ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ১০ বা ১২ টাকার বনরুটির দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হলেও সেগুলোর আকার সামান্য বড় করা হয়েছে। এর আগে, দাম বাড়ানোর দাবিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বেকারি কারখানাগুলো উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল, যা শনিবার থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্যে পুনরায় শুরু হয়।
বর্তমানে রাজধানীসহ বেশ কিছু এলাকায় এই বাড়তি দাম কার্যকর হলেও ঢাকার বাইরে সব জায়গায় চিত্রটা এক নয়। খুলনা, চট্টগ্রাম, সাভার ও রাজশাহীর বিভিন্ন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রোববার পর্যন্ত এসব এলাকায় আগের দামেই বেকারি পণ্য বিক্রি হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৭ হাজার ক্ষুদ্র বেকারির মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৭০০টিরও বেশি। বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই তারা বাধ্য হয়েই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিপরীতে পণ্য উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ কমেছে।
সকাল-বিকেল মিলিয়ে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পায়ে টানা রিকশা চালান তিনি।
চিনির দামও আগের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে।