হামের প্রাদুর্ভাবের প্রায় সাত মাস পর, বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষায় সরকার নতুন করে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করছে। শনিবার রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উপস্থিত থাকবেন।
এই ক্যাম্পেইনটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। মূলত ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া শিশুদের জন্যই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ স্বীকার করেছে যে, পূর্বের ক্যাম্পেইনের সময় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুল ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের শুরুতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ১ হাজার ২০১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছে এবং ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০১ জন মারা গেছে। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের পাশাপাশি এই বিশেষ ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে। তিনি স্বীকার করেছেন, অতীতে শিশুর সংখ্যা নির্ধারণে এবং মাঠপর্যায়ে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল, যা এবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেনের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে সংক্রমণ এলাকা বা 'হটস্পট' শনাক্ত করা জরুরি। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, ছয় মাসের কম বয়সী শিশু এবং ৫৯ মাস বেশি বয়সীরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে, অথচ এদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো টিকাদান পরিকল্পনা নেই।
৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা মূল ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পরে দেখা যায় এই বয়সী শিশুর সংখ্যা আরও ৪৪ লাখ বেশি। ওই সময় টিকাদানের হিসাবে দেখা যায়, কোনো কোনো এলাকায় ১০০ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইন শেষে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩০ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এবার প্রতিটি উপজেলা থেকে পাওয়া সঠিক হিসাবের ভিত্তিতেই এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রাদুর্ভাবের আগের বছর হামে কোনো মৃত্যু ছিল না, এক বছরে আক্রান্ত ছিল মাত্র ১৩২ জন।