জাপানের কাকামিগাহারার অ্যাস্ট্রোটার্ফে এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকির ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সোনা জিতেছে ভারত। এর আগের দিন শুক্রবার চীনের বিপক্ষে মেয়েদের দল ৪৪ বছরের খরা কাটিয়ে সোনা জয়ের পর, শনিবার ছেলেদের এই জয়ে এশিয়াডে অনন্য ‘গোল্ডেন ডাবল’ পূর্ণ করল দেশটি। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এর আগে কখনই টানা দুই আসরে সোনা জিততে পারেনি ভারতীয় পুরুষ হকি দল। ১৯৬৬, ১৯৯৮, ২০১৪ এবং ২০২২ সালের পর এবার ২০২৬ নাগোয়া এশিয়ান গেমসে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচল হরমনপ্রীত সিংয়ের দলের। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সুবাদে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সরাসরি খেলার টিকিটও পেয়ে গেল ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় মালয়েশিয়া। নিজেদের ডি-বক্সে দলের ১১ জন খেলোয়াড়কেই নামিয়ে দিয়ে ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করে তারা। তবে ভারতের আক্রমণভাগের সামনে সেই রক্ষণ প্রাচীর বেশি সময় টেকেনি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বিবেক সাগর প্রসাদের একটি রিভার্স হিট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও একাদশ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় ভারত। প্রথম সুযোগে মনদীপ গোল করতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বুলেট গতির ড্র্যাগ-ফ্লিকে মালয়েশিয়ান গোলরক্ষক মুহাম্মদ জাইমিকে পরাস্ত করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।
তবে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি মালয়েশিয়া। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে উড়ে আসা একটি লং এরিয়াল বল দারুণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চটজলদি হাফ-ভলিতে গোল করেন শ্যালো সিলভেরিয়াস। ফলে খেলায় ১-১ সমতা ফেরে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবারও আধিপত্য বিস্তার করে ভারত। ২৩তম মিনিটে শীলানন্দ লাকড়ার দুর্দান্ত গতির কল্যাণে পেনাল্টি কর্নার পায় তারা। সেখান থেকে চলতি আসরে নিজের সপ্তম গোলটি করে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জুগরাজ সিং।
ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ভারত। ৩৫ ও ৪০ মিনিটে বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর ৪২তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় তারা। বক্সের ভেতর মালয়েশিয়ার আইমান রোজেমির গায়ে বল লাগলে রেফারি এই সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিকে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হার্দিক সিং, যার ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। এই গোলের পর ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় মালয়েশিয়া শিবির।
চতুর্থ কোয়ার্টারে একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায় করে মালয়েশিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলে ভারত। টানা ছয়টি পেনাল্টি কর্নার হাতছাড়া হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি হরমনপ্রীতের দল। ৫৪ মিনিটে দিলপ্রীতের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের মাঝখানে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল করেন সুপার-সাব শীলানন্দ লাকড়া। এটি ছিল ম্যাচে ভারতের একমাত্র ফিল্ড গোল। এরপর ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে মালয়েশিয়ার ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ করে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং।
৫-১ ব্যবধানের এই বিশাল জয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে ভারতীয় দল। ২০১০ ও ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে এই মালয়েশিয়ার কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। সেই পুরোনো ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার পাশাপাশি ২০১৮ সালের পর থেকে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও অক্ষুণ্ন রাখল ভারত।
ম্যাচের ৫৪ মিনিটে তৈরি হয় দারুণ এক মুহূর্ত—দিলপ্রীতের নিখুঁত বিল্ড-আপ থেকে বক্সের মাঝখানে বল পেয়ে আসরে ভারতের একমাত্র ফিল্ড গোলটি নিখুঁত ফিনিশে জালে জড়ান সুপার-সাব শীলানন্দ লাকড়া (৪-১)।