আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটিও হয়ে থাকল তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের মতোই উজ্জ্বল। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচে কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড উপহার দিলেন একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। ম্যাচ শুরুর আগেই ছিল আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে মাঠে ১০ নম্বর জার্সি সংবলিত বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ বার্তা প্রদর্শন করা হয়। খেলা শুরুর ১০ মিনিটে পুরো স্টেডিয়াম এক মিনিট দাঁড়িয়ে মেসিকে সম্মান জানায় এবং গ্যালারিজুড়ে উচ্চারিত হতে থাকে কেবল ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি মেসি। ৭ মিনিটে তার দূরপাল্লার শট বেনিনের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন, ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে চেষ্টা করেন এবং ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাসে ভলি নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৬০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মেসির নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন নিকো পাজ।
ম্যাচের ৭১ মিনিটে বেনিনের ডিফেন্ডার ফাউল করলে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। ঠান্ডা মাথায় স্পটকিক থেকে বল জালে জড়িয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার ১২৬তম গোল। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের বাড়ানো বলে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি, কিন্তু ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে তার শট বাইরে চলে যায়।
২০০৫ সালে অভিষেকের পর ২১ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দীর্ঘ যাত্রায় ছিল শিরোপার অপেক্ষা, ব্যর্থতা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মতো অনন্য সাফল্য। ম্যাচের আগে মেসি আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছিলেন, তিনি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছেন এবং এই জার্সি ছিল তার স্বপ্ন ও গর্বের প্রতীক। শেষ পর্যন্ত গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমেই নীল-সাদা জার্সিতে এক কিংবদন্তির মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তাঁর বিদায় নিয়ে তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা।