প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা পরিচয় কোনোভাবেই মানুষের অধিকার ও সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সভায় প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আশ্বাস দেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এ সময় প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এবং কঠিন চীবর দান উপলক্ষ্যে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশের সকল নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। জানা গেছে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য ২ কোটি টাকা চাইলে প্রধানমন্ত্রী ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এই অর্থ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও মিস সুবর্ণা ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।