প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গিয়াস উদ্দিন রিমনকে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার এই নিয়োগের শর্তাবলি হলো, তিনি অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন তার কর্মজীবনের শুরুতে সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন এবং দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক যুগান্তরসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা ও তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইনি পেশায় মনোযোগী হয়ে তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী 'দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিনকনস ইন' থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল অর্জন করেন এবং যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটিতে 'প্রিন্সিপাল লেকচারার ইন পুলিশ এডুকেশন' (অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সমমান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কেন্ট ও এসেক্স পুলিশ কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিএসসি (সম্মান) ও গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সের প্রোগ্রাম লিডার ছিলেন। ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি পুলিশ বাহিনীর জন্য ডিগ্রি হোল্ডার এন্ট্রি প্রোগ্রাম (DHEP)-এর একাডেমিক প্রধান এবং একাডেমিক সততা প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডি মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
ব্যারিস্টার রিমন শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় বিএ (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের 'লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স' (LSE) থেকে 'ক্রিমিনাল জাস্টিস পলিসি' বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া তিনি নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব ল' থেকে বিপিটিসি সম্পন্ন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসের সম্মানজনক ‘চেভনিং স্কলারশিপ’ এবং জাপান সরকারের ‘সাউথ এশিয়ান ইউথ ইনভিটেশন প্রোগ্রাম’ লাভ করেছেন।
একই সাথে তিনি ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি পুলিশ বাহিনীর জন্য ডিগ্রি হোল্ডার এন্ট্রি প্রোগ্রাম (DHEP)-এর একাডেমিক প্রধান এবং একাডেমিক সততা প্রধান (Academic Integrity Lead) হিসেবে কাজ করেন।