ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আবুধাবির উইকেটে ২৭১ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগাররা মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইনিংস স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৩৩.৪ ওভার। এই হারের পর আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইনালে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে সে ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর কাজটা বেশ কঠিনই হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য বেশ দারুণ ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার ৬.৩ ওভারে ৪৭ রান এনে দেন। তবে সৌম্য ৯ রান করে ফেরার পরই ছন্দপতন ঘটে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নুরুল হাসান সোহান—কেউই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি। শেষ ১২৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ অলআউট হয়। দলের হয়ে ওপেনার তামিম ৪৬ রান করেন, যা ছিল সর্বোচ্চ। এছাড়া সাইফ হাসান ২৬ এবং শেষ দিকে রিশাদ ২৩ রান করলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্রাড ইভান্স ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন।
এর আগে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের চিত্রটি ছিল ভিন্ন। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় তারা বাংলাদেশের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ১৫০ রান যোগ করেন। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করা জিম্বাবুয়ে মাঝের ৩০ ওভারে ১৭১ রান তোলে। ৩৭তম ওভারে সাইফ বোলিংয়ে এসে টেলরকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যাচ বানান। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে টেলর করেন ১০১ রান। এরপর শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়ার আগে আরভিন ৯৩ রান করেন। মাঝে ওয়েসলে মাধেভেরে ১৭ ও সিকান্দার রাজা ৪ রান করে ফিরলেও শেষদিকে নিউমান নায়ুম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা অপরাজিত ২১ রান করে দলের স্কোর ২৭১ পর্যন্ত নিয়ে যান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।
সেখান থেকে ৪০তম ওভার শেষে তাঁদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২০১ রান।