ফেনীতে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের আওতায় চাল ও আটা কিনতে ভোর থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। তবে বরাদ্দ কম থাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বর্তমানে ওএমএসের প্রতিটি কেন্দ্রে জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল ৩০ টাকা এবং পাঁচ কেজি আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সপ্তাহে একদিন বা দুদিন এই সুযোগ মিললেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই অপ্রতুল।
ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৬ বছর আগে ছয়টি বিক্রয়কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও কেন্দ্রের সংখ্যা আর বাড়েনি। ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১০ সালে যখন ওএমএস কার্যক্রম শুরু হয়, তখন পৌর এলাকার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার, যা বর্তমানে ৪২ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৭৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পকারখানার হাজারো শ্রমিকের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন ঢালী জানান, ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ছয়টি কেন্দ্র থাকায় একদিন ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এবং পরের দিন ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে পণ্য বিক্রি করতে হয়। ফেনীতে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির কোনো বরাদ্দ না থাকায় চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ওএমএস ডিলার মো. আকবর হোসেন জানান, তিনি সপ্তাহে দু-তিন দিন পণ্য বরাদ্দ পান এবং প্রতি বরাদ্দে ৭৫০ কেজি চাল ও ৭৫০ কেজি আটা দেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এক টন করে চাল ও আটা বরাদ্দ দিলে মানুষের কিছুটা চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো।
ফেনীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ফেনীতে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা অনেক। দীর্ঘদিনেও বিক্রয়কেন্দ্র না বাড়ানোটা দুঃখজনক। অন্যান্য জেলায় বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লায় ৩২টি, নোয়াখালীতে ১৭টি, চাঁদপুরে ১৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি কেন্দ্র রয়েছে, যা ফেনীর তুলনায় অনেক বেশি।
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ১৪আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ১৪