লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ব্যালন ডি’অর গালা। সেখানে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। অন্যদিকে নারী ক্যাটাগরিতে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বর্ষসেরার ট্রফি জিতে রেকর্ড স্পর্শ করেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। দুই সঞ্চালক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ও কেট স্কটের উপস্থাপনায় মূল অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর শুরু হয়, যেখানে পারফর্ম করেন ব্রিটিশ গায়িকা জোর্জা স্মিথ।
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইংলিশদের সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন হ্যারি কেইন। স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও ওয়েনের পর পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি হাতে তুলে নেন তিনি। এছাড়া ১৯৮১ সালে কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগের পর বায়ার্ন মিউনিখের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বর্ষসেরার খেতাব পেলেন কেইন। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও মঞ্চে কেইনের নাম ঘোষণা করে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করেন কেইন, যার মধ্যে বায়ার্নের হয়ে ৫১ ম্যাচে ছিল রেকর্ড ৬১ গোল। একই সঙ্গে তিনি অ্যালান শিয়ারার ও সোফি টার্নারের হাত থেকে বর্ষসেরা পুরুষ স্ট্রাইকারের ট্রফিও গ্রহণ করেন। ভোটিংয়ে লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে হারিয়ে নিজ দেশে পুরস্কারটি পেয়ে আবেগাপ্লুত কেইন বলেন, ‘আমি প্রায় ভাষাহীন। লন্ডনে এটা হওয়ায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
নারী ক্যাটাগরিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন। স্প্যানিশ তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস ২০২১ ও ২০২২ সালের পর এবার তৃতীয়বারের মতো এই ট্রফি জিতলেন। এর মাধ্যমে তিনি আইতানা বোনমাতির তিনটি ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসালেন। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পথে ৫৩ ম্যাচে ২৬টি গোল এবং ১৫টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। গত জুলাইয়ে মেক্সিকান ক্লাব পাচুয়া থেকে উইমেন্স সুপার লিগের দল লন্ডন সিটি লায়নেসে যোগ দেওয়া পুতেয়াস হলেন ক্লাবটির প্রথম ফুটবলার, যিনি এই সম্মান অর্জন করলেন। এছাড়া নারী ফুটবলে বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের ট্রফি জিতেছেন পাচুয়া নারী দলের মেক্সিকান স্ট্রাইকার শার্লিন কোবরাল।
পুরস্কার দেওয়ার রাতে তরুণ উদীয়মান ও কোচিং ক্যাটাগরিতে ছিল স্প্যানিশদের জয়জয়কার। পুরুষ ফুটবলে বর্ষসেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার (কোপা ট্রফি) জিতেছেন বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল, যাঁর হাতে ট্রফি তুলে দেন ইউক্রেনিয়ান কিংবদন্তি আন্দ্রে শেভচেঙ্কো। নারী ক্যাটাগরিতে উদীয়মান তারকার পুরস্কার পান বার্সেলোনার ২০ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ভিকি লোপেজ। স্পেনের বিশ্বকাপ ও ইউরো বিজয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জিতেছেন পুরুষ ফুটবলের বর্ষসেরা কোচের ট্রফি। পুরষ্কার গ্রহণ করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই পুরস্কার সম্মানের। মনোনয়ন পাওয়া বাকিদেরও অভিবাদন জানাই। আমার এ পুরস্কার গোটা দলের জন্য।’ নারী ফুটবলে সেরা কোচের ট্রফি পেয়েছেন বার্সেলোনা নারী দলের স্প্যানিশ কোচ পেরে রোমেউ।
সেরা গোলকিপারের পুরস্কারেও ছিল স্পেনের রাজত্ব। পিটার স্মাইকেলের হাত থেকে পুরুষ বর্ষসেরা গোলকিপারের পুরস্কার নেন স্পেনের উনাই সিমোন এবং নারী ক্যাটাগরিতে পুরস্কারটি জেতেন কাতা কোল। মানবহিতকর ও সামাজিক কাজের অবদানের জন্য দেওয়া ‘সক্রেটিস পুরস্কার’ পেয়েছেন ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের বুকায়ো সাকা। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ের কাছ থেকে এই পুরস্কার নেওয়ার পর সাকা মঞ্চে রুয়ান্ডার ১৪ বছর বয়সী এক শিশুর লেখা চিঠি পড়ে শোনান, যে ভবিষ্যতে ইংরেজির শিক্ষক হতে চায়। অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলের খেতাব গেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বার্সেলোনার ঝুলিতে। ফরাসি ক্লাব পিএসজির পক্ষে উসমান দেম্বেলে বর্ষসেরা পুরুষ ক্লাবের ট্রফি গ্রহণ করেন এবং নারী ফুটবলে বর্ষসেরা ক্লাবের খেতাব জেতে বার্সেলোনা।