বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে (হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর) নতুন দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজের বরাত দিয়ে সম্প্রতি বলা হয়, বিশ্বজুড়ে যত ওয়েবসাইট আছে, তার ৭০ শতাংশ পরিচালনা করা হয় পিএইচপি দিয়ে। এই ত্রুটির ফলে বাংলাদেশের পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপ সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এগুলোর মধ্যে আর্থিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও রয়েছে। সরকারি সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফ ও উইজ নামক দুটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় গত সপ্তাহে এই ত্রুটিগুলো খুঁজে পান। পিএইচপি উন্নয়নকারী দল ২১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী জরুরি সিকিউরিটি আপডেট প্রকাশ করে এবং ২৩ অক্টোবর আরও একটি ত্রুটি শনাক্তের কথা জানায়। সার্টের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নজরদারিতে দেখা গেছে, আক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলোতে পিএইচপির পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা হালনাগাদ করা হয়নি। এই ত্রুটিগুলো মূলত সেশন ব্যবস্থাপনা ও ফাইল আপলোডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানোর সুযোগ পেতে পারে।
সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানান, শনাক্ত হওয়া ওয়েবসাইটের সংখ্যাটি উদ্বেগজনক। সার্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির 'সেশন আপলোড প্রগ্রেস' সুবিধা সাময়িক বন্ধ রাখা, সার্ভারের সেবা পুনরায় চালু করা, সফটওয়্যার বিন্যাস পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট সচল থাকাকেই নিরাপদ মনে করে নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদে গাফিলতি করছে, যা ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হলেও জাতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করার একটি কার্যকর কাঠামো থাকা জরুরি। সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো তা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হালনাগাদ না করলে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি ও বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।