সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক দফার আন্দোলনের মুখে পড়ার আগেই তাদের পেশ করা ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়া উচিত। এক দফার ধাক্কা সহ্য করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, সেই পরিস্থিতিতে পড়লে পরবর্তীতে তা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। তাই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সহনশীলভাবে ৭ দফা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলে তাদের দল ও জোট আর কোনো লংমার্চ কর্মসূচিতে যাবে না।
সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই ৭ দফা দাবি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার নয়, এটি সাধারণ জনগণের দাবি। এই জনদাবি আদায়েই ১১টি দল রাজপথে নেমেছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এক দফার ডাকও দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি সমর্থকদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নই প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অতীতে গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়ার পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা থাকলেও কৌশলে জনগণের সেই রায় ছিনতাই করা হয়েছে। এ সময় বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় বসার জন্য তারা গণভোট মেনে নিলেও গদিতে বসার পর আর তা তোয়াক্কা করছেন না। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে তারা জনগণকে অপমান করেছেন এবং রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণ এর জবাব দেবে।
সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়ে জামায়াত প্রধান বলেন, জাতি আর কোনো তামাশা দেখতে চায় না। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিলে তার চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। ফ্যাসিবাদের ধারায় হাঁটলে পালিয়ে বেড়ানো এবং দেশ ছাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাড়ে ১৫ বছর সবাই নিপীড়নের শিকার হলেও মজলুম যাতে নতুন করে জালেমে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
তিনি জানান, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দলতন্ত্রের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতেই ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য দেশবাসীকে স্বস্তি দেওয়া এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা, এতে তাদের কোনো নিজস্ব ব্যক্তিস্বার্থ নেই।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুসলেহউদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ এবং চাকসু জিএস ইব্রাহিম রনি।