২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের একটি খসড়া কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে। এই তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কার্যালয়ে মামলার অগ্রগতি জানতে যান। ওই সময় প্রসিকিউটর আনুষ্ঠানিকভাবে খসড়া প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা রোববার সকালেই এই প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনার কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হবে।
তদন্তের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে মোট ৫৮ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের নাম রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ, র্যাব এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হয়নি, কারণ প্রসিকিউশনের আশঙ্কা, তালিকা প্রকাশ পেলে অভিযুক্তদের কেউ কেউ আত্মগোপন করতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি এই অভিযান চালায়। সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি, লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়, যাতে অনেক মানুষ হতাহত হন।