রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) কর্তৃক মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা অবরোধের পর রাজশাহীর সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে রাজশাহী রেল স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনগুলো তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর আগে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে রাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে ট্রেনের টিটিই কর্তৃক অনৈতিকভাবে ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিটিই ও তার সঙ্গীরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। বিষয়টি রেলওয়ে স্টেশনে জানানোর পরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া উচ্চতর তদন্তের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে প্রাথমিকভাবে তিনটি ট্রেনের স্টপেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় বিকাল সাড়ে তিনটায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তারা অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, তারা তাদের ভাইয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার পেয়েছেন এবং ৬ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের অন্যান্য দাবিগুলোও মেনে নেওয়া হয়েছে।