সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার দলীয় অবস্থান ও সংসদ সদস্য (এমপি) পদ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বরখাস্ত করলে তার এমপি পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
সংসদীয় নিয়ম ও রেওয়াজ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি তাদের কোনো সংসদ সদস্যকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তার এমপি পদ রহিত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়, তবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকির ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল। তবে কোনো দল যদি কেবল সাংগঠনিক পদ বা দলীয় পদ থেকে কাউকে অব্যাহতি দেয় এবং স্পিকারের কাছে এমপি পদ বাতিলের আবেদন না করে, তবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এর আগে নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজাকে (সাতক্ষীরা-৪ আসন) দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তার এমপি পদ বহাল ছিল।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের বিষয়ে নজর রাখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব তাদের জানিয়েছেন যে ভিডিওর নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই মঙ্গলবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন।
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০৫আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ২৩: ১৫