তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভূ-রাজনীতি নয়, বরং আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলোই বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তি। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও অংশ নেন।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনকে অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে চীন নির্ভর এবং মোট এফডিআই স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়। বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। তবে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে হলেও, এই রপ্তানি সামর্থ্য বাড়ানোর বিষয়ে চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশ কোনো ভূ-রাজনীতির লক্ষ্য নয়, বরং বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চলে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় করি। এই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয় এবং চীন আমাদের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তার আলোকে অর্থনীতির গতি বেগবান করতে চীন বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।