বিগত এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃটেনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের মাধ্যমে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।
বাকিংহাম প্যালেসের বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজা তৃতীয় চার্লস বার্নহ্যামকে নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছেন। বৃটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়া নেতাকে রাজা সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়ে থাকেন। রাজার সঙ্গে এই সাক্ষাৎটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চূড়ান্ত ধাপ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম জাতীয় ঐক্য, ইতিবাচক মনোভাব এবং গৃহহীনতা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো কাজ করব এবং সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে সঠিক মূল্যবোধ ও মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের গৃহহীন মানুষের দুর্ভোগ অবসানের অঙ্গীকার করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ৩৪ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ৪৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন।
গৃহহীনতা দূর করার এই প্রতিশ্রুতি বার্নহ্যামের জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালীন তিনি একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্থানীয় সরকারের তথ্যমতে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ম্যানচেস্টারে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে আসে। যদিও ২০২১ সালের পর এই সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়র থাকাকালে বার্নহ্যাম ব্যক্তিগতভাবেও গৃহহীনদের সহায়তায় সক্রিয় ছিলেন এবং নিজের বেতনের ১৫ শতাংশ নিয়মিত বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে দান করতেন।