পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতুহলের মাঝে বিজ্ঞানীরা নতুন এক আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন। পৃথিবী থেকে ৪৯ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি পাথুরে গ্রহের চারপাশে বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। এই গ্রহের পৃষ্ঠে তরল পানি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রাণের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে মহাকাশে গ্যাসীয় দানব, সাব-নেপচুন গ্রহ এবং বাসযোগ্য অঞ্চলের বাইরের কিছু পাথুরে গ্রহের বায়ুমণ্ডলের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এই অনুসন্ধানটি আগের সবগুলোর চেয়ে আলাদা। গবেষণার প্রধান লেখক ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক গবেষক ড. কলিন চেরুবিন জানিয়েছেন, সৌরজগতের বাইরে বাসযোগ্য অঞ্চলে থাকা কোনো পাথুরে গ্রহের চারপাশে বায়ুমণ্ডল পাওয়ার এটিই প্রথম নিশ্চিত ঘটনা। সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো পাথুরে গ্রহের বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট গ্যাসের উপস্থিতিও প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে।
আবিষ্কৃত গ্রহটির নাম এলএইচএস ১১৪০বি। এর ভর পৃথিবীর চেয়ে ৫.৬ গুণ বেশি এবং আকার পৃথিবীর চেয়ে ৭০ শতাংশ বড়। ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত এই গ্রহটি কেটাস নক্ষত্রমণ্ডলের একটি ছোট লাল বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। গ্রহটির এক পিঠ সবসময় নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে, অনেকটা চাঁদের মতো। গ্রহটিতে প্রচুর পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর বায়ুমণ্ডল ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে পৃষ্ঠকে রক্ষা করছে।
গবেষণাটি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। চিলির লাস ক্যাম্পানাস অবজারভেটরিতে ম্যাগেলান ক্লে টেলিস্কোপে বসানো ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফের মাধ্যমে গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্যে বায়ুমণ্ডল থেকে হিলিয়াম গ্যাস বেরিয়ে যেতে দেখা গেলেও, ২০২৫ সালের পর্যবেক্ষণে তার বিপরীত চিত্র ধরা পড়ে, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে তথ্য বিশ্লেষণের দিকে ঠেলে দেয়।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক জেন বার্কবি এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মহাবিশ্বে লাল বামন নক্ষত্রগুলো প্রচুর থাকলেও তাদের গ্রহগুলো সাধারণত উচ্চ বিকিরণের কারণে বাতাসহীন পাথরের টুকরায় পরিণত হয়। তবে এলএইচএস ১১৪০বি-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। যদিও বিজ্ঞানীরা এখনো গ্রহটিতে প্রাণের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে এর বায়ুমণ্ডলের গঠন এবং বাসযোগ্য পরিবেশ তাদের আশাবাদী করে তুলেছে।