হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ নাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে রওনা হয়ে দুবাই হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তারা।
বাকি ১৪ জন নাবিক আরও কিছুদিন পর মালয়েশিয়া হয়ে দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি। দীর্ঘ অবরুদ্ধ দশা পেরিয়ে গত ২৩ জুন রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সেই রোমহর্ষক ও অবরুদ্ধ দিনগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম। দেশবাসী যারা দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে তারা নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন বলে জানান ক্যাপ্টেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মধ্যে যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাচ্ছিল এবং পাশে অন্য জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে হোটেলে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে তারা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, এক রাতে তাদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একটি তেল ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা sechsটি টাগবোট দিয়েও নেভানো সম্ভব হচ্ছিল না। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে সেই আগুন তাদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি ছিল।
জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, ওই সংকটের সময় তাদের স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তাদের জাহাজ চালাতে হয়েছে। তা ছাড়া ওই এলাকায় মাইন ছড়িয়ে থাকায় সামান্যতম বিচ্যুতিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল।
নাবিকেরা বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ করলে বিএসসি কর্মকর্তারা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্বজনেরা তাদের জড়িয়ে ধরলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।