সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাস বাংলাদেশে আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস সরবরাহের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। পেট্রোনাসের মহাব্যবস্থাপক নরহামিজাম বিন নরদিন নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল সম্প্রতি সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলার সাথে বৈঠক করে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পেট্রোনাসের প্রস্তাব অনুযায়ী, আইএসও বা ক্রোয়োজেনিক লরি ট্যাংকার পদ্ধতিতে মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস এনে বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ ফিট ও ৪০ ফিটের বিশেষ ট্যাংকারে করে এলএনজি জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হবে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৬০০টি ট্যাংক থাকবে, যা পরে লরির মাধ্যমে পাইপলাইন বা সরাসরি কারখানায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে এই পদ্ধতি কার্যকর করতে ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রিজার্ভ ট্যাংক এবং রিগ্যাসিফিকেশন স্থাপনের জন্য বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবিত গ্যাসের মূল্য নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার শিল্প গ্রাহকদের কাছে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৩১ টাকায় বিক্রি করলেও, পেট্রোনাস প্রতি ইউনিটের দাম চেয়েছে ১০০ টাকা। বিটিএমএ’র প্রতিনিধি রাজীব হায়দার জানিয়েছেন, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সবাই গ্যাস চাইলেও এই উচ্চমূল্যে তা কেনা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম চড়া হওয়ায় বর্তমানে পেট্রোবাংলাকেও প্রতি ইউনিট ৬৬ টাকায় গ্যাস কিনতে হচ্ছে, যা পেট্রোনাসের প্রস্তাবিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পেট্রোনাসের প্রতিনিধিদল আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি সুগার মিল পরিদর্শন করে এই পদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই করবেন। এদিকে, গ্যাসের অভাবে বর্তমানে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে চড়া দামে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় প্রতি ইউনিটের খরচ ২৫ টাকার বেশি পড়ছে। গত বছর এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা এবার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েও গত ৫ বছরে ৫৫০টি শিল্পকারখানা গ্যাস সংযোগ পায়নি।