পতিত স্বৈরাচার ও জুলাই গণহত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশসংখ্যক শিক্ষক গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের দোসর এসব শিক্ষকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই শিক্ষকরা শিক্ষা অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্র করছেন। এমনকি তারা ‘সিস্টেম আপডেট’ ও ‘মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটে’র মতো সংকেত ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন সভা করছেন, যার তথ্য ও স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের হাতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষক দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছি এবং অন্যায়কারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া। ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, দণ্ডিত ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কোনো শিক্ষকের নয়। শিক্ষক সমাজের কাজ জ্ঞানচর্চা ও সত্যের পক্ষে থাকা। কোনো শিক্ষক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তা আইন ও পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী। এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকের নাম গণমাধ্যমে আসায় শিক্ষক নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ১৩ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ জন শিক্ষকের পরিচয় ও অভিযোগ যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি কাজ করছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটিকে ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনা তদন্তাধীন। তবে শিক্ষক নেতারা বলছেন, ফ্যাসিবাদ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের প্রধান সংগঠক মো. কবীর উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ আজ নিষিদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠন। তাদের কোনো শিক্ষক বা গোষ্ঠী যদি পতিত স্বৈরাচারকে ফেরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, সেটা দেশ ও জাতির সঙ্গে বেঈমানি। আমরা এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানাই।