সাগর উত্তাল থাকায় সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে টার্মিনালে থাকা কার্গোটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে দেশের জাতীয় গ্রিডে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে আগে থেকেই চলমান গ্যাস সংকট নতুন করে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় শিল্প কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাবে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি বাড়লে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
সামিটের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি চাপে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে একদিকে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং, অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্না ও শিল্প উৎপাদনে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে।