জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার সবসময় থাকবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের সীমিত সম্পদের মধ্যেও এসব পরিবারের সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজনটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, "আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ একটি ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।" অনুপস্থিত সেই মানুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এসব পরিবারের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।" তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু করা সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সংগ্রামীদের এই আত্মত্যাগকে কাজের অন্যতম প্রধান প্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।"
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি ও কষ্টের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ স্বাধীন। এছাড়াও সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক ও শাহরিয়ার পামির এবং বিএনপি আমার পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।