নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ এএম। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বমঞ্চে দেওয়া ভাষণে তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন জানান এবং তার দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসাথে তিনি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অবদানের কথাও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়েই বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে অনেক দেশ অশান্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশাল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাই হওয়া উচিত পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার। বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব সমাজ দেখতে চায়, যেখানে একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে।