প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম। নিউইয়র্কে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচিসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন জানান, এই চার দিনে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচটিতে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা চার দিনে প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাথেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরা, মানবাধিকার পরিস্থিতি, আইনের শাসন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সাথে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সাথে এসব বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মিডওয়াইফারি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতেও বাংলাদেশ উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বা অংশগ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সফরে থাকা তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর মধ্যে চারটিতে বক্তব্য রেখেছেন, যা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।