ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখেই সেলাই দেওয়ার একটি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কনিকা মণ্ডল নামে এক নারীর মৃত্যুর পর শহরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা নিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন, যেখানে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং একপর্যায়ে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়।
অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে রোগীকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গজটি বের করা হলেও ১৯ আগস্ট রাতেই কনিকা মণ্ডল মারা যান। এদিকে, রোগীর স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর তাদের নির্দেশনায় মঙ্গলবার বিকেলে সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের ওটি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার বাড়িতে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
ওটির কার্যক্রম বন্ধের ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম ও অস্ত্রোপচার ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে গজ কীভাবে রয়ে গেল, অস্ত্রোপচার শেষে প্রয়োজনীয় গণনা ও যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে রোগীর শারীরিক অবনতির কারণ যথাসময়ে শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় এসেছে।