রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের নতুন একটি ধাপ শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) ইউনিট-১-এর ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি’ শুরু করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করে। এই অনুমোদনের পরপরই কেন্দ্রটিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় ‘স্টেজ সি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। এই ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। পরীক্ষার আওতাধীন বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম। রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া টারবাইন নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা এবং জেনারেটরের কার্যকারিতা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
‘স্টেজ সি’ পর্যায়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রথম ইউনিটের জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা, যা সিঙ্ক্রোনাইজেশন নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবে। তবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। তাই এই ধাপ শুরু হওয়াকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর ঘোষণা নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে স্টেজ সি শুরু হওয়া বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং এ পর্যায়ের সব কার্যক্রমে পারমাণবিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।