পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরে পুলিশের গাড়ি ও বক্সে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার ঢাকা ও গাজীপুরে এসব ঘটনায় মোট ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ৮ জনকে থানা-পুলিশ আটক করেছে। ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, আটক ব্যক্তিরা মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার অনুসারী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা শতাধিক ব্যক্তিকে সংগঠিত করে শ্রমিক আন্দোলনে পাঠিয়েছিলেন এবং এরাই পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর চালিয়েছে। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুরে আটক হওয়া ১১ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, যারা মূলত সাধারণ শ্রমিক নন। তারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।
অন্যদিকে, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়া এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৯ নেতা-কর্মীসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ সিকদার, মৌচাক ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের কালিয়াকৈর উপজেলার সাবেক সহসভাপতি আরিফুল হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মিয়া, যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মিজান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল, সৈকত শেখ ও মিজানুর রহমান।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে শিল্প পুলিশ ৯ জন এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশ ১৩ জনকে আটক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
শিল্প পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় এর পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করেছে এবং সহিংসতা মোকাবিলায় ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।