ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর থাকা যাবতীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানান, এখন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ও পাল্লা বাড়ানোর পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহেব্বি স্পষ্ট করেছেন যে কেবল বক্তব্যের মাধ্যমে সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ নেই। এর পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাস্তবে প্রদর্শন করাই এখন তাদের মূল দায়িত্ব। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির সাম্প্রতিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন। খামেনি যেকোনো ধরনের হুমকি বা সামরিক হামলার জবাব ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, শত্রুপক্ষকে থামিয়ে দেওয়ার মতো বহু উপায় ইরানের হাতে রয়েছে। তেহরান চাইলে প্রতিপক্ষের সামরিক ও বেসামরিক সম্পদ ব্যবহার করে তাদের দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে অসম যুদ্ধের কৌশলে শত্রুর অপ্রত্যাশিত কোনো স্থানে আঘাত হেনে তাদের সক্ষমতা অকার্যকর করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তি নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত সক্ষমতাও ব্যবহারের ক্ষমতা রাখে।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সম্পদকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সামরিক তথ্যভান্ডার হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তেহরানের সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন সক্ষমতা কবে কার্যকর হবে কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ঠিক কত দূর পর্যন্ত বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি আইআরজিসির মুখপাত্র।
শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।