আগামীকাল শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন। অপর একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবারই রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন এবং শুক্রবার তিনি তাঁর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলোর কেউই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর জনগণের চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সর্বশেষ মিত্র হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাঁকে সরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর এই চাপ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগস্ট মাসে নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার পর সাহাবুদ্দিনের পদের গুরুত্ব ও আলোচনা নতুন করে শুরু হয়।
৭৬ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, তাঁর পদটি মূলত আলংকারিক, কারণ নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে বারবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠালেও রাষ্ট্রপতির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গত ডিসেম্বরে তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন, যে নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান ক্ষমতায় আসেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নতুন স্থায়ী প্রার্থী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এদিকে, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, তবে নির্বাসনে থাকা হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।
২০২৪ সালের ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন।