সপ্তম শতাব্দী থেকে বিশ্বজুড়ে একের পর এক শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র ও রাজবংশের উত্থান ঘটে। এই সাম্রাজ্যগুলো কেবল রাজনৈতিক কর্তৃত্বই প্রদর্শন করেনি, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, শাসনব্যবস্থা, স্থাপত্যকলা ও সংস্কৃতির বিকাশেও অসামান্য অবদান রেখে গেছে।
ইসলামী সভ্যতার সমৃদ্ধি ও বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানো এসব সাম্রাজ্যের ইতিহাসের প্রথম পর্যায় শুরু হয় খোলাফায়ে রাশেদিনের মাধ্যমে, যা ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর সূচিত হয়।
খোলাফায়ে রাশেদিন ১১ থেকে ৪০ হিজরি বা ৬৩২ থেকে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এই রাষ্ট্র দ্রুতই আরব উপদ্বীপের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমে লিবিয়া, মিসর, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান এবং পূর্বে খোরাসান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। উত্তরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পর্যন্ত এর সীমানা পৌঁছে যায়।
এই চার খলিফা ছিলেন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.), হজরত ওসমান বিন আফফান (রা.) এবং হজরত আলী (রা.)। হজরত আবু বকর (রা.) রিদ্দার যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং কোরআন সংকলনের কাজ শুরু করেন।
হজরত ওমর (রা.) সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তারের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, প্রশাসনিক দপ্তর বা দেওয়ান এবং হিজরি সন প্রবর্তন করেন। হজরত ওসমান (রা.) নৌবাহিনী গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোরআন সংকলন সম্পন্ন করেন। এই যুগে নতুন শহর হিসেবে বসরা, কুফা ও ফুস্তাত নির্মিত হয় এবং আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ঘটে।
তবে হজরত ওসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি পায় সিফফিনের যুদ্ধ এবং খারেজিদের হাতে হজরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে।
এরপর ৬৬১ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (৪১-১৩২ হিজরি) উমাইয়া খিলাফতের শাসনকাল শুরু হয়। হজরত হাসান বিন আলী (রা.) আমীর মুয়াবিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে এই বংশের সূচনা ঘটে। মুয়াবিয়া (রা.) তার পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করার মাধ্যমে ইসলামী ইতিহাসে প্রথম রাজতান্ত্রিক বংশানুক্রমিক শাসন প্রবর্তন করেন।
সিরিয়ার দামেস্ক ছিল এই সাম্রাজ্যের রাজধানী। উমাইয়া খিলাফত পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর থেকে পূর্বে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এ বংশের উল্লেখযোগ্য শাসকদের মধ্যে রয়েছেন মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান, যিনি রাজধানী হিসেবে দামেস্ককে গড়ে তোলেন।
আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান প্রশাসনিক সংস্কার করেন, আরবিকে দাপ্তরিক ভাষা করেন এবং প্রথম ইসলামী মুদ্রা চালু করেন। ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের আমলে সিন্ধু ও স্পেন বিজয়সহ সাম্রাজ্যের ব্যাপক ভৌগোলিক ও স্থাপত্যিক প্রসার ঘটে। এছাড়া হজরত ওমর বিন আবদুল আজিজ তার সততা ও ন্যায়বিচারের জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
শেষ খলিফা মরওয়ান বিন মুহাম্মদ অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মুখে সাম্রাজ্যের পতন ঠেকাতে ব্যর্থ হন। এই যুগেও কায়রোয়ান ও ওয়াসিতের মতো নতুন শহর নির্মাণ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের ব্যাপক চর্চা অব্যাহত ছিল।
খোলাফায়ে রাশেদিন (১১-৪০ হিজরি/ ৬৩২-৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ)
হজরত ওসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর মুসলিম জাহানে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়। খলিফা হজরত আলী (রা.) এবং আমীর মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধ (৩৭ হিজরি) মুসলিম উম্মাহর মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে খারেজি সম্প্রদায়ের উত্থান এবং তাদের হাতে হজরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে খোলাফায়ে রাশেদিনের অ