দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ গ্রাহকরা তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। ঢাকার বাইরের অনেক জেলায় দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে এবং গভীর রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিল আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কেউ কেউ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় হারিকেন ও হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজনে এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, নাগরিক জীবনের সমস্যার সমাধান তো হচ্ছেই না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলছে। সারা দেশে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জুন-জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণের বেশি আসার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা বলেন, বিদ্যুতের ব্যবহার না থাকলেও লাগামহীনভাবে বিল আসা কোনোভাবেই হিসাবযোগ্য নয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘জনগণের টাকায় ডাকাতি করা হচ্ছে’। তারা আরও বলেন, পাম্পসমূহে গ্যাস নেই, অথচ সরকার মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। সমস্যা সমাধানের পথে না হেঁটে জনদুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও তারা সামনে আনেন। সরকারের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, নির্বাচিত সরকার আসলে জনগণের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আপনারা বলেছিলেন, জনগণ তার অধিকার ফিরে পাবে এবং দ্রব্যমূল্য সহনশীল থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বক্তাদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টার ওপরে লোডশেডিং হচ্ছে।