বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া কালো ছায়া এখনো বিদ্যমান। এই ছায়া পুরোপুরি মুছে ফেলতে সাংস্কৃতিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ এই উৎসবের আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই গণজাগরণের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মত ও আদর্শের ভিন্নতা ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। যারা জাতিকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তাদের দেশের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেন জামায়াত আমির। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের মতো শক্তিগুলোকে স্থায়ীভাবে পরাজিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক, আইনজীবী ও সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. মনোয়ারুল ইসলাম, শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, মাহবুব মুকুল এবং আহসান হাবীব খান।
উৎসবটিতে দেশের প্রখ্যাত শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এদের মধ্যে তাফাজ্জল হোসাইন খান, মোশাররফ হোসেন খান, ইব্রাহিম মণ্ডল, ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, সাইফুল আরেফিন লেলিন এবং জুলাই শহীদ আব্দুল্লাহ তাহিরের মা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তেলাওয়াত, আবৃত্তি, জারি, সঙ্গীত, কাওয়ালি, গম্ভীরা ও অভিনয়ের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের শিল্পরূপ নিয়ে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়।