দীর্ঘ বিরতির পর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে নিজের পরিচয় গড়তে চান এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতা। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এরপর বিজ্ঞাপন, নাটক এবং সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র ‘নিউলি ম্যারেড’ গল্পে তার বিপরীতে থাকছেন তৌসিফ মাহবুব।
নতুন এই অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বসিত বর্ণিতা। প্রায় দুই মাস রিহার্সেলের পর তিনি এর শুটিং শুরু করেছেন এবং এরই মধ্যে ওয়েব ফিল্মটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্ণিতার কাছে এটি কেবল অভিনয়ের একটি সুযোগ নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের একটি যাত্রা। শিহাব শাহীন ও তৌসিফ মাহবুবের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছেন বলে জানান। বিশেষ করে তৌসিফ মাহবুবের সহযোগিতা তার জন্য বড় পাওয়া। সংলাপ বলা থেকে শুরু করে চরিত্রের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে তৌসিফ তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি তৌসিফ নিজের অংশের চেয়েও বর্ণিতার অভিনয় কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী।
অভিনয়ে বর্ণিতার পথচলা অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করেছেন। নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমাতেও তাকে দেখা গেছে। তবে টিনএজে এসে নিয়মিত কাজের জন্য অডিশন দিতে গিয়ে একের পর এক প্রত্যাখ্যাত হন তিনি। নিজের যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়েও যখন দেখেছেন পরিচিত মুখ হওয়ায় অনেক ইনফ্লুয়েন্সার সুযোগ পাচ্ছেন, তখনই ক্ষোভ থেকে নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পথ তাকে নিয়ে যায় লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়, যেখানে তিনি সফল হন।
ব্যক্তিজীবনেও বর্ণিতা খানিকটা আলাদা। স্কুল-কলেজে অনেকের সঙ্গে মিশলেও ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেভাবে তৈরি হয়নি। তার সবচেয়ে কাছের মানুষ মা। তবে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় এসে ফারিশতা মৌ ও নাযাহ নাওয়ারকে পেয়েছেন, যারা এখন তার বেস্ট ফ্রেন্ড। অভিনয়ের পাশাপাশি বই পড়া ও সিনেমা দেখা তার অন্যতম প্রিয় কাজ। প্রিয় লেখক ফ্রাঞ্জ কাফকা। অভিনয়ে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী, বিপাশা হায়াত, অপি করিম ও আফসানা মিমি। পছন্দ করেন আফরান নিশো ও প্রীতম হাসানকেও। ভবিষ্যতে অভিনয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বর্ণিতা। তার স্বপ্ন কেবল দেশীয় অঙ্গনে সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। ছোট পর্দায় ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও পা রাখতে চান তিনি।