রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুবদলের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট থানাধীন বলাকা সিনেমা হলের সামনে। সেখানে যুবদলের কয়েকজন কর্মী ফুটপাতে চাঁদা তুলতে এলে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। এ সময় যুবদলের কর্মীরা তাদের মারধর করলে শিক্ষার্থীরা প্রথমে হলে ফিরে যান। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজের ছাত্রদল নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংঘটিত হয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়ান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মারামারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে নিউ মার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। এতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার, সদস্যসচিব শাহাদাত, মোবাইল সোহেল, চায়না সুমন ও আজিমসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা লাঠি, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রিয়াঙ্গন মার্কেট সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে গিয়ে পাল্টা হামলা চালান। এ সময় ওই এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
যুবদলের এই হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য মো. সাগর খান, মো. সায়মন ইসলাম, ছাত্রদল সদস্য মুসফিকুর রহিম, শাকিব হাসান, ইমরান হোসেন এবং ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম।
এলাকাবাসী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিউ মার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল এলাকায় অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান মার্কেট দখল ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার ৪ নম্বর আসামি। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।