প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমে বাংলাদেশ দল যেন এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল। প্রায় ২৩ বছর অজি ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশকে টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ জানায়নি। আর্থিক ক্ষতির অজুহাতে দীর্ঘ সময় এই সুযোগ না মিললেও, মাঠে নেমেই নাজমুল হোসেন শান্তর দল নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে অজিদের দম্ভ চূর্ণ করেছে। ডারউইনে চারদিনের লড়াইয়ে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা। ধারাভাষ্যকাররা একে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক অনন্য অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। স্টিভ স্মিথ ৭১ রান করলেও হাসানের ছয় উইকেটের তোপে স্বাগতিকরা বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। জবাবে বাংলাদেশ তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি (১০১ রান), অধিনায়ক শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ওপর ভর করে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। এতে সফরকারীরা পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড। জশ হ্যাজলউড অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ছয় উইকেট নিলেও বাংলাদেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো।
দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রানের একক লড়াই চালালেও মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। মিরাজ ৬৬ রানে পাঁচ উইকেট শিকার করেন, যা বিদেশে তার চতুর্থ এবং টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকারের মাইলফলক। হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হয়। ম্যাচে হাসান মাহমুদ মোট ৯ উইকেট শিকার করেন।
মাত্র ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল তানজিদ তামিমের উইকেট হারালেও সাদমান ইসলাম (অপরাজিত ২৫) ও মুমিনুল হকের (অপরাজিত ৩০) ব্যাটে ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। মুমিনুল হক বাউন্ডারি মেরে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ম্যাচ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল দলকে অভিনন্দন জানান। অধিনায়ক শান্ত জানান, পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বর অবস্থানে থাকলেও আপাতত ম্যাচ ধরে এগোতে চান তারা এবং পরের টেস্টেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিরিজ শেষ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।