প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিরসনে সরকার আগামী ১০ বছরের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই পরিকল্পনাটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে সকাল ১১টা ২৪ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পৌঁছান। সেখানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণের মধ্যদিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-এর আনুষ্ঠানিকতা তিনি শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য বিগত সরকারের অপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই আজ সমগ্র দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্ট ভোগ করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু মহল রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে, সেই সমর্থনের উপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের নির্বাচিত দল জনগণের জন্য অতীতেও কাজ করেছে, বর্তমানেও কাজ করবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি যোগ করেন, এখন সময় হচ্ছে কাজ করার। এখন সময় হচ্ছে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। দেশকে যদি আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারি তাহলে এই দেশের মানুষকে কষ্ট করে থাকতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত দিনে কীভাবে এই দেশের মানুষের অর্থসম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছিল। সেই পাচারকারীদেরকে এই দেশের মানুষ বিতারিত করবে।
কিশোরগঞ্জ সফরের অংশ হিসেবে তিনি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬ প্রদান করেন। বিকেলে তিনি জেলা সদরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান প্রদান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং সমাজকল্যাণ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এই কার্যক্রমের আওতায় ৪৩২ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, ১০ জন পুরোহিত এবং ২ জন যাজকসহ মোট ৪৪৪ জনকে সম্মানী প্রদান করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।