চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন। রোববার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার মীম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। ফাউন্ডেশনের দাবি, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কারণে সৃষ্ট তীব্র মানসিক চাপ থেকেই এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
পরীক্ষার ফলাফলকে শিক্ষার্থীদের সাফল্য বা ব্যর্থতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার যে প্রবণতা সমাজে রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করে আঁচল ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির মতে, একটি পরীক্ষার ফল কোনোভাবেই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। ফলাফলকে ঘিরে তৈরি হওয়া লজ্জা, ভয় এবং সামাজিক চাপ অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই এ ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর আগে ২০২৪ সালে ৩১০ জন, ২০২৩ সালে ৫১৩ জন এবং ২০২২ সালে ৫৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।
পরীক্ষার সময় এবং ফলাফল প্রকাশের অন্তত দুই সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো।প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা নিয়োগ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।ফলাফল প্রকাশের সময় হটলাইন বা বিশেষ মানসিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা।শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক সংকট ও আত্মহত্যার ঝুঁকি শনাক্তের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীদের অপমান বা তুলনা না করার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কাঠামো প্রণয়ন করা।ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত ও সহায়তার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ব্যবস্থা রাখা।গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যার সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করা।